রবিবার । ৩১শে মে, ২০২৬ । ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

স্মরণ: শিক্ষক-অভিভাবক আমাদের ভূঁইয়া স্যার

ড. খ. ম. রেজাউল করিম

অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবদুল কাদির ভুঁইয়া ছিলেন একজন প্রথিতযশা শিক্ষক ও সমাজবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৪৫ সালের ২০ অক্টোবর নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গভর্মেন্ট মুসলিম হাইস্কুল (ঢাকা) থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উঁচু মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইতিহাসবিদ, লেখক, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দিন উমরের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণায় ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর সমাজবিজ্ঞান স্বত্ব বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। শুরু থেকেই তিনি নব্যপ্রতিষ্ঠিত বিভাগটির একাডেমিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকান্ডর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়া বিভাগটির উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি তাঁর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফজলুর রশিদ খানকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান ও বিভাগটিকে গড়ার অনুরোধ জানান। খান স্যারও তাঁর প্রিয় ছাত্রের অনুরোধে ১৯৬৯ সালে সরাসরি রীডার বা সহযোগী অধ্যাপক পদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন। গুরু-শিষ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিভাগটি একাডেমিক, ক্রীড়া ও সাং®তিক দিক থেকে একটি সুসংগঠিত বিভাগ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিতি লাভ করে।

ভারতের দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিল্লী স্কুল অব ইকোনামিক্স (ভারত) থেকে পিএইচ-ডি ডিগ্রিধারী অধ্যাপক ভূঁইয়ার গবেষণা সুপারভাইজার ছিলেন ভারতের প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক এ. এম. শাহ। তাঁর পিএইচ-ডি গবেষণা বিষয় ছিল বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবার। সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হলও তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল ইতিহাস ও রাজনীতি। তাই সুযোগ পেলেই বিভিন্ন আড্ডায় এ দুটি বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। অধ্যাপক ভূঁইয়া দীর্ঘ ৪৪ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পাঠদান করে গেছেন। পাশাপাশি ১৯৮০ থক ১৯৮৩ সাল অবধি তিনি বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও সাহসী উদ্যোগ বিভাগের বহুবিধ উন্নয়ন ঘটে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, সিনেট, একাডমিক কাউন্সিল এবং ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর বার্ড অব গভর্নেন্স এর সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল অবধি শের-এ বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ ও ১৯৯৯ সাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১-২০০৫ সালে পর্যন্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর (২০১২) তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল অবধি খাজা ইউনুস আলী ইউনিভারসিটির (সিরাজগঞ্জ) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাংক ফ্যাকাল্টি এবং সাউথ ইস্ট ইউনিভাসিটির অতিথি শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ মানুষটি আমরিকান সাসিওলজিক্যাল এসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান সোসিওলজিক্যাল সোসাইটি, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ও বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য ছিলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন আমি অধ্যাপক ভূঁইয়াকে শিক্ষক ও গাইড হিসেবে পাই। প্রথমে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে এবং পরবর্তীকালে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর ফেলো হিসেবে তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচ-ডি সম্পন্ন করি। সেই সুবাদে অধ্যাপক ভূঁইয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ ২৭ বছরের। তাঁর বেশ কিছু একাডেমিক কর্ম ও গবেষণা কাজ সহযোগী হিসেবে কাজ করা এবং এসব কাজের উদ্দেশ্য সহযাত্রী হিসেেব দেশের নানা স্থান ভ্রমণের সুযোগ ঘটে। অর্থাৎ তাঁর সান্নিধ্য গিয়ে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর বহির্মুখী ও সম্মাহনী ব্যক্তিত্ব, মানবতাবোধ-মহত্ত্ব ও জ্ঞানের গভীরতায় বিমোহিত হই। মূলত তাঁর যাপিতজীবন ও সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার কৌশল, চিন্তা জগতের ব্যাপ্তি এবং সততা, সময়ানুবর্তিতা ও পরোপকারী স্বভাবের কারণে তিনি আমার মত অনেক শিক্ষার্থীর কাছে একজন অনুকরণীয় আদর্শ শিক্ষক ও অভিভাবক হয়ে ওঠেন।

একজন শিক্ষার্থীবান্ধব ও আদর্শ শিক্ষকের যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন তাঁর সেসবের বাইরে এমন কিছু বিশেষ গুণাবলি ছিল, যা তাকে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদেরকে কোনোদিন ভুলতে দেয়নি। মনে পড়ে ১৯৯৫ সালে অনার্স তৃতীয় বর্ষ পড়াকালীন পরিচয় হলেও স্যারকে আমি প্রথম মাস্টার্স ক্লাস আধুনিক সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বর কোর্স শিক্ষক হিসাবে পাই। স্যারের পড়ানোর ধরণ, বাচনিক কৌশল, উপস্থাপনভঙ্গি ও ভাষার ব্যবহার ছিল অসাধারণ ও আকর্ষণীয়। তত্ত্বের মতো রসকষহীন ও অপেক্ষাকৃত জটিল ও কঠিন বিষয়ক তিনি সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতেন। তিনি ঘড়ির কাঁটা মেপে প্রতিদিন সকাল ৮.১৫ মিনিট ক্লাস হাজির হতেন। কোনো দিন এর ব্যতিক্রম চোখে পড়েনি। ক্লাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিশ্চিত করেই তিনি তাঁর প্র¯তকত সুসংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ বক্তৃতা শুরু করতেন। তাঁর বক্তৃতাগুলা ছিল সমসাময়িক সমাজের উদাহরণ ভরপুর অথচ বাহুল্য বর্জিত। কোনো বিষয়ের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে উদাহরণ দিতেন। ফলে আমরা সবাই বিষয়টি তাৎক্ষণিক বুঝতে পারতাম। ‘শিক্ষার সকলের চেয়ে বড়ো অঙ্গটা-বুঝাইয়া দেওয়া নহে, মনের মধ্যে ঘা দেওয়া (রবীদ্রনাথ ঠাকুর)।’ ঠিক এই কাজটি তিনি করতেন অত্যন্ত সফলভাবে।

মানব জীবনের অদৃশ্য নাটাই হলো শৃঙ্খলা। আর এই সুশৃঙ্খল জীবনের ভিত্তি রচিত হয় শিক্ষাজীবনে। তিনি অত্যন্ত শৃঙ্খলিত জীবন যাপন করার কারণ শিক্ষার্থীদের কোনো অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা একেবারই সহ্য করতে পারতেন না। তাইতো প্রায় প্রতিদিনই শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কাউকে না কাউকে তাঁর ক্লাস থেকে বের করে দিতেন। অনেকেই মজা করে তাকে সমাজবিজ্ঞানের বাঘ বলে ডাকতেন। ফলে আমরা সবাই স্যারকে প্রচন্ড ভয় পেতাম। তবে সে ভয় ছিল শ্রদ্ধা ও ভালবাসা মিশ্রিত।

ভূঁইয়া স্যার লেখালেখির চেয়ে পড়তে ও বলতে বেশি পছন্দ করতেন। ফলে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা একেবারেই কম। তার লিখিত গ্রন্থ দু’টি হলো ‘স্যার সৈয়দ আহমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তা’ (এটি তাঁর মাস্টার্স থিসিস ছিল) ও ‘সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব: নির্বাচিত সমাজবিজ্ঞানীদের অবদান’ (সহলেখক আমি)। মূলত আমার অনুরোধেই তিনি দ্বিতীয় গ্রন্থটি লিখতে সম্মত হন। এছাড়া তিনি সামাজিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ১৬টি গবেষণা প্রবন্ধ দশ-বিদেশের মানসম্মত সামাজিক বিজ্ঞান জার্নাল প্রকাশিত হয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরকারি অনুদান অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন। সেসব প্রকল্প তাঁর শিক্ষার্থীদের তথ্যসংগ্রহকারী হিসেবে কাজে লাগাতেন এবং তাদেরকে হাতে-কলমে গবেষণা শেখাতেন। আমি তাদের মধ্যে অন্যতম। এছাড়া তিনি দশ-বিদেশের বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পাজিয়াম ও কনফারেন্সও অংশ নিয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন অধ্যাপক ভূঁইয়া। জীবন তাকে কখনো কোনো দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে দেখিনি। সততা ও আদর্শের পথে অবিচল থেকে তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করে গেছেন। শুধু সমাজবিজ্ঞান বিভাগ নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ম প্রশাসনিক পদ আসীন থেকে ভূঁইয়া স্যার সমাগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। যে কোনো সহকর্মী-শিক্ষার্থী কিংবা কোনো অফিস সহকারী সমস্যা নিয়ে তাঁর দারস্থ হলে তিনি তা সমাধানের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। মনে হতো এটি যনো তাঁর নিজের সমস্যা।

ভূঁইয়া স্যারর সজন্য ও ভদ্রতা জ্ঞান ছিল শিক্ষণীয়। মন পড় আমাক তিনি শুরু থকই তুমি সম্বাধন করতন। আমি মাস্টার্স শষ করই তাঁর পরামর্শ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়র আইবিএস-এ এমফিল কার্স ভর্তি হই। ভর্তির পরপরই তিনি একদিন তাঁর অফিস সহকারীর মাধ্যম আমাক একটা চিঠি পাঠান। খামর উপর ও চিঠির শুরুত তিনি আমাক জনাব রজাউল করিম সম্বাধন করন। তিনি ঐ অফিস সহকারীক বলছিলন ‘আইবিএস-এ গিয় রজাউল করিম স্যারক চিঠিটা দব’। অফিস সহকারী আইবিএস-এ এস রজাউল করিম নাম কানা স্যারক খুঁজ না পয়, আমাক এসে জিজ্ঞাসা করন য ‘রজা ভাই ভূঁইয়া স্যার রজাউল করিম স্যারক দবার জন্য একটা চিঠি পাঠিয়ছন, কিÍু এ প্রতিষ্ঠান এই নাম কানা স্যারক খুঁজ পাছি না। আপনি কি ওনাক চনন?” আমি চিঠিটি হাত নিয় দখি আমার চিঠি। আমি তাক বলি এটাতা আমার চিঠি। তখন স আমাক বল, ‘আপনি আবার স্যার হলন কব?’। এভাবই স্যার অন্যক সম্মানিত করতন।

গুরুভক্তি ও যাগাযাগ রক্ষায় ভূঁইয়া স্যার ছিলন অতুলনীয়। যখন আধুনিক যাগাযাগ কশল গড় ওঠনি, তখন তিনি নিয়মিত চিঠি লিখ ও টলিফান তাঁর বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, শিক্ষক ও কিছু শিক্ষার্থীদর সঙ্গ যাগাযাগ রাখতন। কাজটি তিনি অত্যÍ নিষ্ঠার সঙ্গ করতন। একদিন তা তিনি বলই বসলন ‘আমি এটা সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ করি।’ এছাড়া তাঁর বন্ধু-বান্ধব বা শিক্ষকদর কউ রাজশাহীত একাডমিক কাজ বা বড়াত এল তিনি তাদর কাথায় রাখবন, কি খাওয়াবন, কিভাব যাবন ইত্যাদি বিষয় নিয় ভীষণ ব্যস্ত হয় পড়তন। তারা যখানই অব¯ান করুক না কন, স্যারর বাসায় একবলা খত হতা। আবার বিদায় বলায় তাদরক নানা প্রকার উপঢকন দিত ভুলতন না।

উপহার মানই শুধু ব¯ নয়, উপহার মান অনুভব, সম্পর্কর মূল্য আর কারও মুখ হাসি ফাটানার এক অনন্য প্রকাশ। কাউক উপহার প্রদান ছিল ভূঁইয়া স্যারর অন্যতম বশিষ্ট্য। কউ তার বাসা বা অফিস গল তিনি তাক কানা না কানা উপহার দিতন। এছাড়া বিভিন উৎসব-পার্বণ তার প্রিয়জনদর নিয়মিত শুভছা উপহার পাঠাতন। রাজশাহীত থাকার কারণ তিনি আম ও লিচুর মসুম দশর বিভিন অঞ্চল ছড়িয় থাকা তার সুহৃদদরক ঐসব ফল পাঠাত ভুলতন না। আমি নিজ তাঁর কাছ থক য কত উপহার পয়ছি তাঁর হিসব নই। আমার মতা অনকই তাঁর কাছ থক এসব উপহার নিয়মিত পত। অনক সময় তাঁর নিজর সÍানদর কাছ থক পাওয়া উপহারও তিনি অন্যদর মাঝ বিলিয় দিতন। কাউক দয়ার মাঝ য আনদ সটি তিনি সত্যি সত্যি উপভাগ করতন।

মানবিক সহায়তা করাক তিনি নতিক দায়িত্ব মন করতন। তাই তিনি দশর প্রত্যÍ অঞ্চলর হত দরিদ্র শিক্ষার্থীদর শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থ দশ ও বিদশ অব¯ানরত তাঁর সÍান, বন্ধু ও সহপাঠী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদর কাছ থক নিঃসংকাচ আর্থিক সাহায্যর আহবান জানাতন। তাঁর সততা, ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বাসযাগ্যতার কারণ সকলই তাঁর আহবান সাড়া দিতন। তাদর কাছ থক প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা অনক শিক্ষার্থী তাদর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয় নিত সক্ষম হন। এটি তাঁর ছিল এক অনন্য গুণ। কাজটি তিনি চাকরি থক অবসর গ্রহণর পরও নিরলসভাব চালিয় গছন।

বলা হয় “দোলনা থক কবর পর্যÍ শিক্ষাকাল”। জীবন চলার পথ তাঁর কাছ থক অনক কিছু জনছি, শিখছি। যমন- পাশাক সবসসময় পরিপাটি থাকা, পাশাকর মূল্য যাই হাক না কনা, তা সুদর কর পরিধান করা, সকাল ঘুম থক ওঠ দিনর সম্ভাব্য কাজগুলা ছাট ছাট চিরকুট লিখ ফলা, য কানা অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়র কমপক্ষ ১০/১৫ মিনিট পূর্ব উপ¯িত হওয়া, কারা ব্যক্তিগত গাড়িত চড়ল, গাড়ির চালক মালিক হল তাঁর পাশ বসা, এবং য কানা অফিস-আদালত গিয় প্রথম নিজর পুরা পরিচয় দিয় কথা বলা ইত্যাদি।

আসল একজন বর্ণাঢ্য জীবনর অধিকারী অধ্যাপক ভূঁইয়া স্যারক নিয় এরকম শত শত প্রবন্ধ লিখও শষ করা যাব না। স্যারক হারিয় আমরা হারিয়ছি একজন আদর্শ শিক্ষক, একজন অভিভাবক। সত্যি বলত কী, আজক আমি যখান দাঁড়িয় আছি তার ভিত্তিভূমি হলন অধ্যাপক ভঁইয়া। স্যারর ষষ্ঠ মত্যুবার্ষিকে, তাঁর বিদহ আত্মার মাগফরাত কামনা করি। স্যারর জন্য সবাই দায়া করবন।

আজ আমার শিক্ষক-অভিভাক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফসর ড. মাহাম্মাদ আবদুল কাদির ভঁইয়ার ৬ষ্ঠ মত্যুবার্ষিকী। কর্মযাগী, আদর্শ ও শিক্ষার্থী-বান্ধব শিক্ষক, অভিভাবক অধ্যাপক ভূঁইয়া বিগত ৩০ ম, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যায় ডংগু জ¦র আক্রাÍ হয় ঢাকা¯ মরুল বাড্ডার নিজ বাসায় শষ নিঃশ^াস ত্যাগ করন। মত্যুকাল তাঁর বয়স হয়ছিল ৭৫ বছর।। সত্যি বলত কী, আজক আমি যখান দাঁড়িয় আছি তার ভিত্তিভূমি হলন অধ্যাপক ভঁইয়া। স্যারর পঞ্চম মত্যুবার্ষিক, তাঁর বিদহ আত্মার মাগফরাত কামনা করি। স্যারর জন্য সবাই দায়া করবন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন